সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঘরে একলা থাকার বেলায়

ঘরে আজ রাতে কেউ নেই।
রাতে একা থাকা এক অর্থহীন ব্যাপার। এই অর্থহীনতায় অর্থ আরোপ করতে হয়। বয়সভেদে আরোপ করা অর্থগুলো ভিন্ন হয়। একটা বয়সে বাসায় কেউ না থাকলে ফ্রিজ খুলে নিষেধ করা খাবারগুলো খাওয়াই ছিল আনন্দের। বয়সটা আরেকটু বাড়লে ফ্রিজ থেকে টেলিভিশন। যে চ্যানেলগুলো ছোটদের দেখা নিষিদ্ধ ছিল, সেগুলো দেখার উত্তেজনার ছিল সীমাহীন। আরও বাড়লে বয়স, টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত হয় ভিসিআর, সঙ্গে নীল ছবির ক্যাসেট। স্কুলজীবনে গুপ্ত বাবুও অনেকের নিঃসঙ্গতা ঘুচিয়েছেন। তিনি এক মহান মানুষ।

বয়স বাড়তে থাকলে অর্থময়তার সংজ্ঞা বদলে যায়। মনে হয়, বাসায় কেউ না থাকা মানে বান্ধবীকে আমন্ত্রণ জানানো, একটু গায়ে গা ঠেকিয়ে বসা। কৈশোর থেকেই আমার আলাদা ঘর। বান্ধবী-ভাগ্যও খারাপ না। একজন, দুজন আবার কখনও তিন-চারজনও এসেছে। তাদের সঙ্গে নির্জলা আড্ডা আর প্রাণখুলে হাসাহাসি সহ্য করেনি কেউ কেউ। মায়ের কাছে তা নিয়ে নালিশও দেওয়া হয়েছে। বলেছে, ‘আন্টি জানেএএএএ-ন, আপনার ছেলে না ঘরের ভেতর কি করছে? মেয়েদের সঙ্গে গোল্লাছুট খেলছে!’ মা আমার উদারতার দেবতা। বলতেন, ‘খেলুক না বাবা। ছেলেমানুষ, তার ওপর আবার বোন-টোন নেই!’

 আমার বান্ধবী-ভাগ্য ভালো। আমার মতো ‘বলদ’ বন্ধু ওরা আর পায়নি জীবনে। সঙ্গে না ঘুমালেও ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া, মশারি নামিয়ে দেওয়া – অনেক কিছুই করেছে তারা। আমি ওদের প্রতি সীমাহীন কৃতজ্ঞ। ওরা না থাকলে আমি হয়ত বিপদগামী হতেম।
বয়স আরেকটু বাড়লে অ্যালকোহল কিংবা ‘শুকনো’য় আসক্ত হয় অনেকে। এদিক থেকেও প্রসন্ন কপাল। ‘শুকনো’ জিনিশ আমি কখনও ছুঁয়েও দেখিনি। গাঁজা বা সিগারেট না খাওয়ার রেকর্ডটা আমার রাখার ইচ্ছে আছে।

 আজ বাসায় একা। এক বয়ঃজ্যেষ্ঠ বন্ধু জানালেন, তাঁর ফ্রিজে সুরা আছে। কিন্তু সামনে অমাবস্যা। শরীর ওসব সইবে কেন!
বাসায় একা থাকা ভয়ঙ্কর ব্যাপার। ছাদে একা একা হাঁটা আরও বিপজ্জনক। হাইট ফোবিয়ার মতো কিছু একটা আছে আমার। তবে সেই ফোবিয়া খানিকটা অ্যাবনরমাল। মনে হয় – নিজেই লাফিয়ে পড়ি সাত তলা থেকে।

 এই বয়সে একা থাকতেই ভালো লাগে। শুধু সমস্যা সৃষ্টি করে স্মৃতিগুলো। মানুষকে একা পেলে তাঁর বেদনাময় স্মৃতিগুলো ভুতের মতো ছেঁকে ধরে তাঁকে। স্মৃতি থেকে নিস্তার পেতে তখন হাসফাস করতে হয়। আলতো করে তখন প্রিয় গানগুলো বাজিয়ে দেওয়া যায়। প্রিয় গানগুলো নিঃসঙ্গতাকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। এতে বিষে বিষ ক্ষয় হয়।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আইসক্রিম

ছবি বানাবার আগে সেটাকে নিয়ে হাইপ তোলার চেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশে এই ট্রেন্ড চালু হয়েছে খুব বেশি দিন আগে নয়। হাইপ তোলা ছবি দেখতে গেলে দেখা যায় একটা বাজে জিনিস। রেদওয়ান রনির 'চোরাবালি' দেখে অনেকে হতাশ হয়েছেন। এবার তিনি বানালেন নতুন ছবি 'আইসক্রিম'। ছবি বানানোর আগে থেকেই আইসক্রিমের জন্য তিনি দুধ জ্বাল দিচ্ছেন, চিনি ঢালছেন, কাঠি সোজা করছেন-- এমন নানান সংবাদ বাড়ি খেতে শুরু করেছিল। শুটিং শেষে আইসক্রিম ঠান্ডা করতে ফ্রিজে ঢুকিয়েছেন। বের করার আগে নিউজ হচ্ছে-- প্যাকেট খুলছেন, মুখে পুরছেন, আইসক্রিম গায়ে পড়ল ... অস্থির! ছবি দেখতে গিয়ে দেখা যাবে, প্যাকেজ নাটকটা ভালোই! 

ব্যক্তিগত কথামালা

বাজারজাত হয়ে গেছি বাজারজাত হয়ে গেছি হৃদয়ে লেগে গেছে কোম্পানির ট্যাগ আমি এখন মাল্টিন্যাশনাল ব্যাগ। কর্পোরেশন রেশন দিচ্ছে মন্ত্র পড়ে ফুঁ দিচ্ছে কাঁপা কাঁপা বুকে নিতম্বের মাঝখানে এঁকে দিচ্ছে সুদৃশ্য লোগো- ওগো, কর্পোরেশন আমার আত্মার ভাতার আমাকে রক্তাক্ত ক’রে সারাটা মাস অর্থহীন রঙীন কাগজ গুঁজে দিচ্ছো  ক’রে দিচ্ছো রমনার সস্তা রমণী। মন পুড়লে কয়লা পাওয়া যায় না পেট্রোল পোড়া ঘ্রাণ সারাটা আকাশ জুড়ে আকাশে আগুন দিতে চেয়েছিলো কে কার সাথে সংঘাত হলো মেঘের! মন কষাকষি হলে ঘরে আগুন দিতে নেই ঘর পুড়লে দেহ পুড়ে যায়, পুড়ে যায় মন মন পুড়লে কয়লা পাওয়া যায় না মেডিকেলের বার্ন ইউনিট জানে কয়লা ও জ্বালানী অধিদপ্তর কখনো জ্বলে না জ্বলন্ত মোমবাতির বুকে থাকে পৃথিবীর হৃদপিণ্ড পোড়াবার সম্ভাবনা। আকাশে হামাগুড়ি দিচ্ছো হে মিষ্টি মিষ্টি ঘুমের ঘোরে ঈসরাফিল বাজায় বিরক্তিকর শঙ্খ যেন সে মৎসকুমার পাখাঅলা ডলফিনের পিঠে চড়ে ঘুরছে আকাশ তার হাতে যেন কৃষ্ণের বাঁশি অযথাই যেন কার সাথে মিছে     ভালোবাসাবাসি আকাশে হামাগুড়ি দিচ্ছো হে বাতাসে বাজিয়ে মাদল স...

সাম্প্রতিক বেদনাসমূহ (মে-জুলাই)

আমার যে স্টেশন নাই এত যে পথ, ধূলোঝড় সারি বেধে কোথায় যাচ্ছে মানুষ ? জিজ্ঞেস করে দেখ, কেউ জানে না। আমিও বুঝি না এ ছুটোছুটির মানে অর্থহীণ দৌড়ঝাঁপে ভুলে গেছি হৃদয়ের পথরেখা। ভাগ্যিস, আমার কোন পিছুটান নাই; তবু মাঝে মধ্যে দীর্ঘশ্বাস জাগে, মনে হয়-- ট্রাভলার, তুমি কতো লাকি, আম‍ার যে স্টেশন নাই কোনো! পান্থপথ ২২ শ্রাবণ, সন্ধ্যা ৮:২৭ পানিরা হয়তো সমকামী পানির নামের পাশে সঙ্গোপনে শুয়ে থাকে সাঁতারু শুশুক। সাঁতার প্রতিযোগিতার শুরু মূলত জন্মের আগে থেকেই। তবু ডলফিনেদের কাছে পরাজিত হয় বাইচের নৌকা। পানিরাও কি তবে পক্ষপাত জানে-- যাকে জরায়ুতে দেয় চ্যাম্পিয়ান ট্রফি, জীবন সাঁতারে সে শেষ রানার আপ! রাগ-ক্ষোভ-অভিমান ব্যতিরেকে পানিকে তাই বলা যায় সমকামী। সমুদ্র কিংবা মেঘে-- এই আকাশ পাতালে বিপরীত লিঙ্গ খোঁজেনি সে! প্রেম কাম জুড়ে তাই এ অক্সিহাই কন্যারা, একা। অসম বয়সী হাইড্রোজেন আর অক্সিজেনের মিলনে যার জন্ম-- সে কারে এগিয়ে দেবে তার রূপালী শরীর? ইদানিং কিছু বোতল তারে আটকে রাখে নিজের ভেতরে, এরে কি প্রেম বলা যায়? বরফের পাহাড় হিমালয় কি জানে, কে তার অগ্নি প্রেমিক? তবে চোখের জলকে সমকাম...